হার্টের রোগ: আমরা যা ভাবি, তাই কি সত্যি?
বয়স বাড়লেই শুধু হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে—এই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে আজকাল তিরিশের কোঠায় থাকা বহু তরুণ-তরুণী হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন। যদিও হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা আগের থেকে অনেকটাই বেড়েছে, তবুও হার্টের অসুখ নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও রয়ে গেছে বহু মানুষের মধ্যে। ফলে, নিজের অজান্তেই হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অল্পবয়সীরা। তাই সময় থাকতে থাকতেই ধারণাগুলি আগে মুছে ফেলা জরুরি।
১) হার্টের রোগ বংশগত : অনেকেই মনে করেন যে পরিবারে কারো হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের কথায়, এই ধারণা রাখা ঠিক নয়। বংশে কোনও হার্টের রোগ থাকলে একটা আশঙ্কা থাকে, তবে সেটাই একমাত্র কারণ নয়। বরং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ধূমপান, মদ্যপান থেকে শুরু করে দেদার বাইরের খাবার খাওয়ার বদ অভ্যাস।
২) পুরুষদের ঝুঁকি বেশি : চিকিৎসকরা বলছেন, পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মহিলাদের তুলনায় অনেকটাই বেশি, এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। যদিও পুরুষদের মধ্যে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বেশি, কিন্তু অ্যাংজাইটি বা ওবেসিটির মত সমস্যা বহু ক্ষেত্রেই মহিলাদের মধ্যেও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
৩) ফ্যাট কম খেলেই সুরক্ষিত থাকা যাবে : হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই খাবারের তালিকা থেকে একেবারে বাদ দিয়ে দেন ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবার। তাতে অবশ্য আখেরে লাভের লাভ খুব একটা কিছু হয় না। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, ট্রান্স ফ্যাটের মধ্যে থাকা হাইড্রোজেন অয়েল যেমন হার্টের জন্য অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, তেমনই চিজ়, ডিম, অ্যাভোকাডোতে থাকা ফ্যাট হার্টের জন্য স্বাস্থ্যকর।
৪) ডায়াবিটিসের সঙ্গে হার্টের রোগের সম্পর্ক নেই : চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ডায়াবিটিসকে হালকা ভাবে নিলেই হিতে বিপরীত। ডায়াবিটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না রাখলে অনেকটাই বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে সবাইকেই যে, ডায়াবিটিসের পাশাপাশি কোলেস্টেরল, স্থূলতার কারণেও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
৫) বুকে ব্যথা মানেই হার্টের রোগের লক্ষণ নয় : হঠাৎ বুকের বাঁ দিকে ব্যথা হল আর আপনিও হার্টের সমস্যা হয়েছে ধরে নিয়ে হার্টের ডাক্তারবাবুর কাছে ছুটলেন। আসল কথা হল, সবসময় বুকে ব্যথা মানেই হার্টের সমস্যা হয়েছে, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বুকে ব্যথা না হলেও নিঃশব্দেই হার্ট অ্যাটাকে শিকার হতে পারেন আপনিও। বুকে চাপ লাগা, মাথা ঘোরা, শ্বাস নিতে কষ্ট, চোয়ালে ব্যাথা, বাম হাতে ব্যাথা, বমি বমি ভাবও কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ হতে পারে।
হার্টের রোগ প্রতিরোধ সম্ভব, যদি আমরা সচেতন হই। নিয়মিত হাঁটা, সুষম খাদ্য, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ—এই কয়েকটি অভ্যাসই হার্টকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারে। হার্টের রোগ নিয়ে মিথ যতদিন থাকবে, ততদিন ঝুঁকিও থাকবে। তাই ভুল ধারণা নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ মতই হার্টের যত্ন নেওয়া জরুরি।






Margart Wrixon
Save on marketing with our AI-optimized service, delivering keyword and location-targeted traffic for less than paid ad campaigns. Start scaling your website now. https://ow.ly/JKzl50XSII5